অদৃশ্য চিঠির রহস্য – পর্ব ২ (তালগাছতলার সন্ধান)


অদৃশ্য চিঠির রহস্য" গল্পের পর্ব ২-তে। আগের পর্বে আমরা জানতে পেরেছিলাম পোস্টমাস্টার হরিপদের হাতে এক অদ্ভুত চিঠি এসে পড়ে, যার মধ্যে এক অজানা বার্তা ছিল…

"তালগাছতলার সন্ধান"
হরিপদ সারা রাত ঘুমাতে পারলেন না। চিঠিটা বারবার মনে পড়ছে। এটা কেউ মজা করেছে? নাকি কোন ষড়যন্ত্র?

পরদিন স্কুলে গেলেন তাঁর পুরনো বন্ধু ও সহকর্মী, শিক্ষক রবিন চক্রবর্তীর কাছে।
রবিন চুপচাপ চিঠিটা পড়লেন, তারপর বললেন,
—“তুই আজও তালগাছতলার পুকুরে যাস না, না?”
হরিপদ মাথা নেড়ে বলল,
—“না রে ভাই, ছোটবেলায় সেদিকে একবার গিয়েছিলাম, অদ্ভুত একটা ঘন অন্ধকার... তারপর আর যাইনি।”

রবিন হালকা গলায় বললেন,
—“বুঝলে হরি, এই বার্তাটা শুধু তোকে উদ্দেশ করে লেখা নয়। এটা সম্ভবত একটা খোঁজ... একটি buried secret!”

হরিপদ চমকে উঠলেন,
—“মানে? তুই কি বলতে চাস ওখানে কিছু লুকানো আছে?”

রবিন বললেন,
—“হ্যাঁ, আর তুই আর আমি ছাড়া এটা কেউ খুঁজে বের করতে পারবে না।”


🌙 শনিবার রাত ১১:৪৫

হরিপদ আর রবিন হাতে টর্চ নিয়ে পৌঁছালেন তালগাছতলার পুরনো পুকুরপাড়ে। চারদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর পুকুরের ধারে অদ্ভুত ঠান্ডা বাতাস।

পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই হঠাৎ মাটির নিচে কিছুর ঝিকঝিক শব্দ পেল রবিন।
—“হরি! টর্চটা একটু এদিকে ফেল!”

ওই জায়গায় তারা মাটি খুঁড়তে লাগলো। অল্প কিছুক্ষণ পর একটা লোহার বাক্স পাওয়া গেল।

হরিপদ কাঁপা হাতে বাক্সটা খুলতেই — একটা প্রাচীন নকশার রূপার কলম বের হলো। সঙ্গে একটা ছেঁড়া পত্র:

"যে এই কলমের রহস্য জানে, সে শুধু গল্প লিখে না—ভবিষ্যৎ লিখে দেয়। সাবধান!"

রবিন হতবাক,
—“হরি… এটা কি সত্যি? এটা কি সেই ‘লেখক কলম’ যার কথা লোকে শুধু রূপকথায় শুনেছে?”

হরিপদ পেছনে তাকিয়ে বলল…
—“তাহলে... আমার কাছে প্রথম চিঠিটা এল কেন?”

আর তখনই পুকুরপাড়ের অন্য পাশে একটা কণ্ঠ ভেসে এল—

"কারণ, তুমি সেই লেখক... যে সত্যকে গল্পের মোড়কে লুকিয়ে রাখতে পারো!"

অদৃশ্য চিঠির রহস্য – পর্ব ১, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫