অদৃশ্য চিঠির রহস্য – পর্ব ৩ (লেখকের চোখ)
হরিপদ টর্চের আলো ঘুরিয়ে দেখল চারদিকে। কেউ নেই। শুধু পুকুরপাড়ের গা ছমছমে বাতাস আর ঝোপঝাড়ের নড়াচড়া।
রবিন বলল,
—“এইটা কি কেউ পেছন থেকে দেখছিল?”
হরিপদ গম্ভীর গলায় বলল,
—“না, কেউ আমাদের চেয়েও আগে থেকে জানে আমরা এখানে আসবো। এবং সে জানে এই কলম আমার কাছে থাকবে।”
তারা বাক্স ও কলমটি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো।
হরিপদ সারারাত ঘুমাতে পারল না।
ভোরবেলা, সে কলমটা নিয়ে একটা সাদা কাগজে লিখল:
"আজ সকাল ৮টায় ডাকঘরে অচেনা একজন প্রবীণ লোক আসবে, যার হাতে থাকবে একটা লাল কাপড় বাঁধা লাঠি। সে খোঁজ করবে একটি পুরনো চিঠির।"
কাগজটা লেখার পর সে কলমটি পাশে রাখল।
আর ঠিক ৮টা ৫ মিনিটে, ডাকঘরে এল একজন অচেনা বৃদ্ধ—হাতে লাল কাপড় বাঁধা লাঠি!
হরিপদের গলা শুকিয়ে গেল।
সে নিজেই নিজের চোখের লেখা ভবিষ্যৎকে দেখে ফেলল।
📜 “তাহলে এটা শুধু ভবিষ্যৎ বলে না... এটা ভবিষ্যৎ তৈরি করে!”
রবিন পরদিন এসে বলল,
—“তুই এখন খুব সাবধানে চল। এই ক্ষমতা একটা আশীর্বাদ, আবার অভিশাপও হতে পারে।”
হরিপদ বলল,
—“তবে আমি এক কাজ করব—এই কলম দিয়ে প্রতিদিন এমন কিছু লিখব যা সমাজের উপকারে আসে।”
রবিন মাথা নাড়ল,
—“দোস্ত, ভুলেও কাউকে একটুও সন্দেহ হতে দিস না। কারণ... এ শক্তি কারও চোখ এড়িয়ে যাবে না।”
📦 রাত ১১টা – নতুন চিঠি
হরিপদ আবার নিজের দরজার সামনে একটা চিঠি পেল।
এবার সেটা রক্তিম কালি দিয়ে লেখা—
“তোমার কলম যতদূর পারে লিখতে, ততদূরই নজর রেখে চলেছি আমরা। সাবধান! খুব তাড়াতাড়ি দেখা হবে...”
চিঠির নিচে শুধু একটা অদ্ভুত প্রতীক – এক চোখ, তার ভেতরে লেখা ‘৭’
🔍 পরবর্তী পর্ব (পর্ব ৪ – “সাত নম্বর চক্র”)
-
কে বা কারা হরিপদকে পর্যবেক্ষণ করছে?
-
এই ‘৭’ সংখ্যা ও প্রতীক মানে কী?
-
কলমের ক্ষমতা নিয়ে কী বড় ঝুঁকি আসছে সামনে?

0 Comments