অদৃশ্য চিঠির রহস্য – পর্ব ৪ (সাত নম্বর চক্র)


অদৃশ্য চিঠির রহস্য পর্ব -৩  পর্বে হরিপদ জানতে পারে তার লেখা ভবিষ্যৎে পরিণত হচ্ছে, কিন্তু সেই মুহূর্তেই সে পায় আরেকটি হুমকিমূলক চিঠি—যার নিচে আঁকা ছিল একটি রহস্যময় ‘চোখ’ প্রতীক, আর তার ভেতরে লেখা ছিল ‘৭’...

"সাত নম্বর চক্র"

হরিপদ সেই রাত আর ঘুমাতে পারলেন না।
চোখের প্রতীকটা যেন তাকে ঘুমের মধ্যেও তাড়া করছিল।
রবিনকে সকালেই ডেকে আনলেন।

—“দেখ ভাই, এই চিঠিটা... এবার তো স্পষ্ট হুমকি!”
রবিন কাগজটা হাতে নিয়ে বলল,
—“এই প্রতীকটা আমি কোথায় যেন দেখেছি। তুই একটু অপেক্ষা কর।”

সে স্কুল লাইব্রেরির পুরনো একটা বই ঘেঁটে এনে বলল,
—“দেখ, এটা! প্রাচীন বঙ্গের গুপ্ত সংগঠন ‘সপ্তচক্র’—এরা বিশ্বাস করত, লেখার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর প্রতিটি চক্রের একজন ‘লেখক’ থাকে...”

হরিপদ স্তব্ধ।

রবিন বলল,
—“এই ‘৭’ মানে তুই সপ্তম লেখক, শেষ উত্তরাধিকারী। মানে এই কলম তোর জন্যই অপেক্ষা করছিল!”


🕯️ রাত ১২টা – ডাকঘরের সামনে ছায়া

হরিপদ আবার শুনল দরজার বাইরে কেমন যেন শব্দ।
জানালার ফাঁক দিয়ে দেখল – একজন লম্বা কালো চাদরে ঢাকা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

সে দরজা খুলতেই—লোকটি হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়ল।

তার চোখদুটি আগুনের মত লাল। ঠান্ডা গলায় সে বলল—
—“তুমি কলম পেয়েছো... আমাদের বিশ্বাসঘাতক হয়ে যাবে না আশা করি?”
হরিপদ কাঁপা গলায় বলল—
—“তুমি কারা?”

লোকটি বলল,
—“আমরা ‘চক্র’। সাত জন ছিলাম, ছয় জন হারিয়ে গেছে। এখন তুমিই সপ্তম। কিন্তু মনে রেখো—কলম কখনও ক্ষমা করে না।”

তারপর সেই লোক একটি পাণ্ডুলিপির খণ্ড হরিপদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।


📄 পাণ্ডুলিপিতে লেখা:

“লেখক, তুমি যা লেখো তা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, কারো অতীতও বদলে দিতে পারে। সাবধান—এক ভুল বাক্য, আর পৃথিবী নিজের রং হারাবে।”


📍শেষ দৃশ্য:

রবিন হরিপদকে বলল,
—“তুই এই খেলা থেকে বের হ, যত তাড়াতাড়ি পারিস। নয়তো তোর চারপাশের মানুষ... তোকে হারাবে।”

হরিপদ চুপচাপ কলমটা হাতে নিলো, চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগল—
এখন সে কী লিখবে? কীটা সে লিখবে না?



🔮 পরবর্তী পর্ব (পর্ব ৫ – “লিখে যাওয়া মৃত্যু”)

  • অতীত কি সত্যিই বদলানো সম্ভব?

  • ‘চক্র’ কি হরিপদকে ব্যবহার করতে চাইছে?

  • একজন হারিয়ে যাওয়া ‘চক্র’ সদস্য ফিরে আসছে... যার কলম এখন বিষ!


অদৃশ্য চিঠির রহস্য – পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৫